ইউআইইউ’তে “ভাষামূল: মুখের খোঁজে” শীর্ষক জাতীয় ন্যাচারাল ল্যাগুয়েজ প্রোসেসিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ইউআইইউ’তে “ভাষামূল: মুখের খোঁজে” শীর্ষক জাতীয় ন্যাচারাল ল্যাগুয়েজ প্রোসেসিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

সকল ভাষা শহীদ ও তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ভাষার মাস জুড়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কম্পিউটার ক্লাব (ইউআইইউ সিসিএল) উদ্যোগে এবং বেঙ্গলী.এআই -এর সহযোগীতায় “ভাষামূল: মুখের খোঁজে” শিরোনামে ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (ঘখচ) প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শনিবার (০২ মার্চ ২০২৪) ইউআইইউ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে “ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়” – কিংবদন্তী গীতিকার আবদুল লতিফের গানের এই পঙ্কতিটি স্লোগান রূপে সেদিন মুখরিত করেছিল ঢাকার থমথমে পরিবেশ। মাতৃভাষায় কথা বলতে পারার অধিকার চাইতে সেদিনই প্রথম কোন জাতি সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। ঢাকার পিচঢালা রাস্তা রঞ্জিত হয়েছিল শহীদের রক্তে। ভাষা শহীদদের এই ত্যাগ যেন বারংবার মনে করিয়ে দেয়, মায়ের ভাষার তাৎপর্য ঠিক কতটা। এরই চেতনায় ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (ঘখচ) প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। যার মূল লক্ষ্য এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা যেটি বাংলদেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক উপভাষার সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর বিষয়গুলোকে বিবেচনায় এনে তা আন্তর্জাতিক ফনেটিক এলফাবেটে রূপান্তরের সক্ষমতা রাখবে।

জাতীয় ডাটাথন প্রতিযোগিতাটি ৮-২৮ ফেব্রুয়ারি অবধি চলমান ছিল, যেখানে প্রতিযোগী দলগুলোকে কিছু নির্ধারিত নিয়ম মেনে এমন একটি প্রযুক্তি বা মডেল তৈরি করতে হবে যা বাংলা যেকোন আঞ্চলিক উপভাষার ধ্বনি, বলার ভঙ্গি, স্বর, প্রভৃতি বিষয়গুলোকে বুঝতে পারবে এবং সেই অনুযায়ী ভাষাটিকে ইন্টারন্যাশনাল ফনেটিক এলফাবেটে রূপান্তর করতে পারবে। এটি করার মূল উদ্দেশ্যই হলো এমন একটি অও প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষকে পরিচয় করানো যা সর্বস্তরের বাংলা ভাষাভাষীর জন্য ব্যবহার করতে সহজ হবে।

উক্ত প্রতিযগিতায় মূলত ৬ টি জেলার টাঙ্গাইল, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নড়াইল ও রংপুর আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে কাজ করা হয় এবং দেশের প্রায় ৩০টি সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১০০টি দল অংশগ্রহণ করে। এক মাসব্যাপী প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত পর্বের জন্য শীর্ষ ২৫ টি দল নির্বাচিত হয়। ফাইনাল রাউন্ড মার্চের ১ ও ২ তারিখে ইউআইইউ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত পর্বে প্রতিযোগিরা তাদের বানানো সিস্টেম/মডেল বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করে।

প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইউআইইউ’র টিম অ্যাপোক্যালিপস, ২য় স্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম কিতা করিস এবং ৩য় স্থান অর্জন করেছে বুয়েটের টিম ক্রিস্টানো রোনাল্ড। চ্যাম্পিয়ন টিমকে ৫০,০০০/- টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকরিকে ৩০,০০০/- টাকা এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জনকরিকে ২০,০০০/- টাকার প্রাইজমানি প্রদান করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, ছাত্র-ছাত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *