গাজায় একদিনে আরও শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত

গাজায় একদিনে আরও শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনে আরও শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর: আল জাজিরার।

নতুন মৃতদের নিয়ে গত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৯২৩ জনে। আর আহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৪ হাজার ৯৬ জন।

খবরে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি হামলায় অনেকে আহত হয়েছেন। এছাড়া অনেকে ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। তাদের কাছে উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। হামলায় ১২শ’র বেশি মানুষ নিহত হয়। জিম্মি করে নিয়ে যায় আরও ২৪২ জনকে। ওই দিন থেকে পাল্টা আক্রমণে তীব্র আক্রোশে গাজার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার দেশটি। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি হামলায় পুরো গাজা ভূখণ্ড প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৩১ হাজার ৯২৩ ফিলিস্তিনি। আর আহত হয়েছেন ৭৪ হাজার ৯৬ জন। ঘরবাড়ি হারিয়ে গাজার বাসিন্দারা প্রায় সবাই উদ্বাস্তু হয়ে গেছে।

কঠোর অবরোধ ও অবিরাম হামলার মধ্যে থাকা গাজাবাসীরা অনাহারে ভুগতে ভুগতে দুর্ভিক্ষের প্রান্তে চলে গেছে। ইতোমধ্যেই অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় শিশুসহ অনেকের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষুধায় বেপরোয়া হয়ে ওঠা লোকজন ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর এমন আচরণে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের বদলে গত রোববার মিশরের সীমান্তবর্তী রাফা শহরে স্থল অভিযানের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। যেখানে হামলার মুখে গাজার অন্যান্য এলাকা থেকে প্রায় ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছেন।

গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলের অভিযানে চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে, যেখানে কয়েক ডজন নিহত হয়েছেন।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটরদের বলেছেন ইসরায়েল হামাসকে পরাজিত করার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *