পরীক্ষার বিধি-বিধান: ক্ষেত্রবিশেষ শিথিল হওয়া বাঞ্ছনীয়

পরীক্ষার বিধি-বিধান: ক্ষেত্রবিশেষ শিথিল হওয়া বাঞ্ছনীয়

দেশের ৮টি প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা এবং ২টি সরকারী বিশেষ প্রতিষ্ঠানসহ ৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকতার বয়স তিন যুগ।

অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা কেন্দ্রীয় পরীক্ষা, ভর্তি পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা, নির্বাচনী পরীক্ষা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়োগ নির্বাচনী পরীক্ষা ইত্যাদিতে সদস্য থেকে প্রধান পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার কমবেশি অভিজ্ঞতা হয়েছে বৈ কি।

এসব পরীক্ষায় কিছু কঠোর বিধি-বিধান রয়েছে। যেগুলোকে আমরা সামান্য শিথিল করলে এক একজন শিক্ষার্থী/ পরীক্ষার্থী /চাকুরী প্রার্থী জীবনে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি নয় সূচনা করতে পারেন।

আমরা কিছু কিছু কেন্দ্র প্রধান, প্রতিষ্ঠান প্রধান, পরিদর্শক, প্রধান পরিদর্শক রয়েছি, যারা সামান্য ছাড় দিতেও রাজি নই।

আইন মানুষের জন্য। যে আইন মানুষের জীবন বাঁচাতে সামান্য উপকার করতে পারে না, বরং তা জীবন সংহারে বাধ্য করে সেটা কোনো আইন নয়।

আইন যত শক্তই হোক, সামান্য শিথিলতার জন্য যদি একজনের জীবন পরিবর্তনের সুযোগ করে, সেক্ষেত্রে আন্তরিক হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।

আমি ব্যক্তি জীবনে এই ৩৬ বছরে এই আইনগুলোর ব্যাপারে কিছুটা শিথিল করে শিক্ষার্থী/পরীক্ষার্থীদের পক্ষে কাজ করেছি, তাতে কারো কারো জীবনের আমূল অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এমনকি তারা দেশ জাতির বড় সেবায় নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

গত শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছিল। ফেসবুকে এবং বিভিন্ন খবরের মাধ্যমে জানা যায়, খুব বেশি নয় ২/৪টি কেন্দ্রে দুই থেকে পাঁচজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শুরুর ১০-২০ মিনিট আগে এসেও তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। যেহেতু নির্দেশনায় দেওয়া ছিল পরীক্ষা শুরু ০০.৩০ ঘন্টা পূর্বেই কেন্দ্রে পৌঁছতে হবে।

আমার দৃষ্টিতে বিষয়টি মোটেও মানবিক হয়নি। সেই কেন্দ্র প্রধান ১০ মিনিট দেরি হওয়ার জরিমানা স্বরূপ তাদেরকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১০ মিনিট পূর্বেই তাদের থেকে উত্তরপত্র নিতে পারতেন। অথবা অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে পারতেন।

আমাদের দেশে এ বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো উপায় নাই যে, রাস্তায় বেরোলে এক ঘন্টার পথ আমরা এক ঘন্টাতেই পৌঁছে যাব। এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না, বরং কোনো কোনো সময় তিন ঘন্টাও লেগে যায়।

বিসিএস পরীক্ষাগুলো হয় সাধারণত বিভাগীয় শহরে। আমাদের দেশের অধিকাংশ পরীক্ষার্থী নিম্নবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত হওয়ায় এবং বিভাগীয় শহরে তাদের কোনো আত্মীয়-স্বজন না থাকায় তাদের গ্রামের বাড়ি থেকেই এসে পরীক্ষা দিতে হয়। এদের মধ্যে দু চারজনের এমন অবস্থা হবে না, এটি নিশ্চিত বলা যায় না।

Necessity knows no law. আইন বিষয়ে সতত প্রচলিত প্রবাদটির জন্ম এমনি হয়নি।

তাই, আমরা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ পরীক্ষার্থীদের সামান্য উপকার করে দেশ জাতির উন্নয়নে অংশগ্রহণে তাদের সুযোগ দিতে আমরা একটু সদয় হই।

লেখক: অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান, আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এবং সাবেক ডিন, থিওলজী এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *