বিশ্ব বই দিবস : কিছু প্রস্তাবনা

বিশ্ব বই দিবস : কিছু প্রস্তাবনা

বিশ্ব বই দিবস হচ্ছে পড়া প্রকাশনা এবং কপিরাইট প্রচারের জন্য ২৩ এপ্রিল পালিত একটি দিবস।

এ দিবস পালনের মধ্য দিয়ে ঠিক কতজন পাঠক বা কতজনের বই পড়ার অভ্যাস বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কতজনের প্রকাশনা কর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে বা এ দিবস উপলক্ষে কতজন কয়টি বই রচনা করেছেন এগুলো কিছুই আমার জানা নেই।

এ দিবসের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা কতজন পাঠক, লেখক, গ্রন্থাকার, কবিয়াল, প্রবন্ধকার ও রচয়িতা ধারণা রাখি, সেটাও অনেকের কাছে প্রশ্ন।

আমাদের দেশের কতজন লেখক প্রকাশক গ্রন্থকার পড়া প্রকাশনা সম্পর্কে গুরুত্ব দেন, সেটাও একটি প্রশ্নের বিষয়।

এসব বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়ার শতাধিক কারণও রয়েছে। নিম্নের দু-চারটি কারণ উল্লেখ করছি।

আমাদের শিক্ষার্থীরা যেসব বিষয়ে পড়াশোনা করছে কর্মজীবনে এ পড়াশোনার সাথে কোন মিল থাকে না। পাস করে যারা চাকরি করবে তাদেরকে বিভাগের পড়া বাদ দিয়ে চাকুরীর পড়া পড়তে হয়। যার কারণে পড়ার প্রতি তাদের চরম একটা বিতৃষ্ণার সৃষ্টি হয়।

অন্যান্য পাঠক লেখকের কথা বাদই দিলাম। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ হাজার শিক্ষক আছি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০০ শিক্ষকও হয়তো পাওয়া যাবে না, যারা কিছু গ্রন্থ রচনা করে থাকেন।

এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে- তার মধ্যে একটি মৌলিক কারণ হলো এ গ্রন্থগুলো প্রকাশনার ব্যাপারে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন উদ্যোগ নেই।

কারণ হলো কোনো প্রকাশনা সংস্থা কোনো জ্ঞানের বই প্রকাশ করতে চায় না। কারণ, তারা সবাই পুস্তক ব্যবসায়ী; জ্ঞান বিতরণকারী নন।

যে নোট গাইড প্রকাশ করলে বাজারে বেশি চলবে, লাভ বেশি হবে, তারা সেটাই প্রকাশ করে থাকেন।

তাই আজকে বই দিবসে আমার কিছু প্রস্তাবনা নিম্নে তুলে ধরছি।

১. প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব প্রকাশনা থাকবে। সেখানে একটি করে এডিটোরিয়াল বোর্ড থাকবে বিষয়ভিত্তক। অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাংলা ভাষায় পাঠ্য বই প্রকাশ করবে।

এবং বিশ্ববিদ্যালয় এগুলো বিক্রি করবে। বিশ্ববিদ্যালয় লেখককে কমপক্ষে ৫০% রয়েলটি দিবে। বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব বিক্রয় সংস্থার মাধ্যমে এগুলো বিক্রয়ের ব্যবস্থা করবে। এর লভ্যাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইনকামের উৎস হবে।

২. বিভাগের খরচে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা থেকে প্রকাশ করবে। বিভাগ লেখককে ৫০% রয়েলটি দিবে। আর বিভাগ এটি বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিবে। এর লভ্যাংশ বিভাগের একটি ইনকামের উৎস হবে।

৩. বিশ্ববিদ্যালয় লেখক থেকে যথাযথ সম্মাননা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এ পান্ডুলিপির স্বত্বাধিকারী হবে।

৪. লেখক/ গবেষককে নির্ধারিত অংকের প্রণোদনা দিবে।

৫. ইউজিসির তত্ত্বাবধানে একটি প্রকাশনা সংস্থা থাকবে, যেখান থেকে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গ্রন্থই প্রকাশিত হবে। এ প্রকাশনা সংস্থা নির্ধারিত রয়েলটি দিবে অথবা স্বত্ব নিয়ে নিবে নির্ধারিত সম্মানীর বিনিময়ে।

৬. শিক্ষক-লেখকগণ মিলে নিজেরা একটি প্রকাশনা সংস্থা করতে পারেন। এর মাধ্যমে বইগুলো প্রকাশ করে নিজেরা বাজারজাত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। এতে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

এর চাইতে আরো ভালো কোন প্রস্তাবনার মাধ্যমে লেখকদেরকে যেমন লেখার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে তেমনি প্রকাশনা সংস্থাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

অন্যথায়, এ বই দিবস পালনের সার্থকতা শুধু বছরে একদিন ফেসবুকেই থেকে যাবে। এর দ্বারা দেশ জাতি বিশ্ব কোন উপকৃত হবে না।

লেখক: অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান, আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এবং সাবেক ডিন, থিওলজী এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *