“শব-ই-বরাত বা মধ্য শা’বানের রাত এর ফযিলত”

“শব-ই-বরাত বা মধ্য শা’বানের রাত এর ফযিলত”

গতকাল ইবিতে ছিল শব ই বরাতের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল। আলোচকদের সবার শেষ আলোচক হিসেবে আমাকে দেয়া হয়েছিল আট মিনিট সময়, যা বলার ছিল তার কিছুই বলতে পারি নাই। এরপর ফেবুতে একজন অর্বাচীনের বক্তব্য দেখে চক্ষু চড়কগাছ। অবশেষে ফেবুতেই ফেরা যদি জাতির খেদমতে আল্লাহ এ প্রচেষ্টাটুকু কবুল করেন সে আশায়-

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা –আদ-দুখানের চতুর্থ নং আয়াতে বলেন: ﴿فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ﴾ এতে(এই রাতে) প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়াদি বন্টিত হয়ে থাকে। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইকরামাহ রা. অন্যান্য মুফাসসিরীন থেকে বর্ণিত হয়েছে- এটা নিসফে মিন শা’বান (যা আমাদের দেশে প্রচলিত ফার্সী শব্দ-শবে বরাত) এবং অধিকাংশ মুফাসসিরীন বলেছেন, এটি লাইলাতুল ক্বদর এর রাত, যা শবে ক্বদর নামে আমাদের কাছে পরিচিত।

ব্যাখ্যাগুলোর ব্যাখ্যা করলে বুঝা যায়, কুরআন নাযিল হয়েছে লাওহে মাহফুয থেকে দুনিয়ার আসমানে এবং সেখান থেকে রাসূল মুহাম্মদ সা. এর নিকট। সূরা ক্বদর এবং সূরা বাকারার আয়াতে বর্ণিত কুরআন নাযিল হয়েছে ক্বদর রাতে এটি একেবারেই স্পষ্ট।

সূরা দুখানের বর্ণনা অনুযায়ী কুরআন নাযিল হয়েছে বরকতময় রাতে। এর ব্যাখ্যা যদি করা হয় লাওহে মাহফুয থেকে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ, তাহলে সেখান থেকে গারে হেরায় রাসূল সা. এর নিকট অবতরণ, যা ঘটেছিল রমজান মাসে ক্বদর রাতে। এ ধরনের ব্যাখ্যাকে কুরআন বিকৃতি করণের শামিল বলে অনেকেই মনে করেন। আর যদি ব্যাখ্যাটিকে সঠিক ধরে নেয়া হয়, তাহলে প্রশ্ন আসে দুখানের চার নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা কী হবে?

মুফাসসিরীনদের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ মনে করেন- আয়াতে ব্যবহৃত ইয়ুফরাকু যা ফারকুন শব্দ থেকে, যা দুটি বস্তু বা দুজন ব্যক্তির মাঝে পার্থক্যকরণকে ইংগিত করে।

হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় লাইলাতু নিসফে মিন শা’বানে আজাল রহিতকরণ, রিযিক বন্টন, হজ্জে আগমনকারীদের লিষ্ট তৈরী করণ এ রাতেই হয়ে থাকে, যাকে আমরা ভাগ্যরজনী বলে থাকি। ইবনে আব্বাস রা. বলেন: إن الله اللَّهَ يَقْضِي الْأَقْضِيَةَ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَيُسَلِّمُهَا إِلَى أَرْبَابِهَا فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ আল্লাহ তা’আলা মধ্য শ’বানের রাতে সিদ্ধান্তসমূহ চূড়ান্ত করেন এবং শবে ক্বদরে তা বাস্তবায়নকারী ফেরেশতাদের নিকট অর্পন করেন। (সুনানু বায়হাকী, তাফসীরুল কুরতুবী ১৬/১২৭ )।

সূরা দুখানের আয়াতসমূহ যদি লাইলাতুল ক্বদর বুঝায় তাহলে কী হয়? যা হয় তাহলো এ রাতে আল্লাহ তা’আলা প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ফেরেশতাদের কাছে তাদের কাজের সহিফা হস্তান্তর করেন যেমন মালাকাল মাউত এর নিকট ঐবছরের মৃত্যবরণ করবে যারা তাদের লিষ্ট হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু লিষ্ট তৈরী হয় লাইলাতু নিসফে মিন শা’বানে। আল্লাহ আলামু বিছ-ছাওয়াব।

ইমাম তাবারী রহ. ইকরামাহ রা. এর সূত্রে বর্ণনা করে বলেন: মধ্য শাবানের রাতে সারা বছরের কার্যাবলীর ফিরিস্তি তৈরী করা হয়, মৃতদের থেকে জীবিতদের রহিত করা হয় এবং হাজীদের নাম লেখা হয় যাতে কাউকে সেখানে বাড়ানোও হয় না, কমানোও হয় না। খুব সম্ভাবত ইমাম তাবারী উসমান ইবনুল মুগিরাহতুবনুল আখনাস থেকে মুরসাল সনদে বর্ণনা করেন রাসুল সা. বলেছেন: এক শাবান থেকে আরেক শাবান আজাল বা হায়াত কাটা হয় এমনকি কে বিবাহ করবে, তার সন্তান হবে, মৃতদের থেকে তার নাম বাদ যাবে। (ইবনু জারীর আত-তাবারী, তাফসীরুত-তাবারী, মুয়াসসাতুর রিসালাহ, খণ্ড-১০ পৃ. ২২)।

হাদীস থেকে আমরা লাইলাতু নিসফে মিন শা’বান সম্পর্কে আমরা যা পাই-
عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «إِنَّ اللهَ لَيَطَّلِعُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ»،.
১. আবূ মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. বলেন: লাইলাতু নিসফে মিন শা’বানে আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাহদের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন এবং তাঁর সকল বান্দাহকে ক্ষমা করেন মুশরিক এবং মুশাহিনকে ছাড়া। (ইবনু মাজাহ) ইমাম ইবনু হিব্বান এটিকে সহীহ বলেছেন এবং তাঁর সহীহ ইবনে হিব্বানে উল্লেখ করেছেন। (সহীহ ইবনে হিব্বান, রিসালাহ,খণ্ড-১২, পৃ. ৪৮১)। হাফেয আল-মুনযেরী বলেছেন: এ হাদীসের সনদে কোন সমস্যা নেই।( আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, খণ্ড-৩, পৃ. ৩০৭, হাদীস নং- ১০২৬,২৭৬৭। উপরোক্ত হাদীসটি মুয়ায ইবনু জাবাল রা. বর্ণনা সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে- সহীহ তাবারানী হাদীস নং-২০৩, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং- ৫৬৬৫, সুনানু বায়হাকী হাদীস নং-৬২০৪, মাজমাউজ যাওয়ায়িদ-হাদীস নং-১২৯৬০)। ইমাম তাবরানী রহ. বলেছেন: শবে বরাত প্রমাণের জন্য এই হাদীসটিই যথেষ্ট৷ শায়েখ আলবানীও অনুরুপ মতই ব্যক্ত করেছেন-আস সহীহাহ ৩/১৩৫-১৩৯ পৃষ্ঠা৷

عبد الله بن عمرو، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: «إن الله ليطلع إلى خلقه ليلة ‌النصف من شعبان فيغفر لعباده إلا اثنين: مشاحن، وقاتل نفس». وخرجه ابن حبان في «صحيحه» من حديث معاذ مرفوعا.
২. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. বলেন: মধ্য শাবানের রাতে আল্লাহ তা’আলা বান্দাহর নিকটবর্তী হয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন এবং তিনি তার বান্দাহদেরকে ক্ষমা করেন দুই ব্যক্তি ব্যতিত: মুশাহীন এবং আত্মহত্যাকারী। (ইমাম আহমদ) এ হাদীসটি ইমাম ইবনু হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে মুয়াজ ইবনু জাবাল রা. এর মারফুউ সনদে উল্লেখ করেছেন।

وعن عبدالله بن عمر رضي الله عنهما قال: «خَمْسُ لَيَالٍ لَا يُرَدُّ فِيهِنَّ الدُّعَاءَ: لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، وَأَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَجَبٍ، وَلَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَلَيْلَتَيِ الْعِيدَيْنِ»
৩. আব্দুল্লাহ ইবনু ওমার রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: পাঁচটি রাতে দোয়া ফেরত দেয়া হয় না (কবুল করা হয়)- জুমআর রাত, রজব মাসের এক তারিখের রাত, নিসফে মিন শা’বানের রাত এবং দুই ঈদের রাত। (ইমাম বায়হাকী তাঁর গ্রন্থ আস-সুনানুল কুবরা তে-আবূদ-দারদা রা. সূত্রে এ হাদীস উল্লেখ করেছেন যদিও সনদের মধ্যে দুর্বল বর্ননাকারী রয়েছেন। ইমাম শাফেঈ রহ. বলেন আমাদের কাছে এ বর্ণনা পৌছেছে যে কথিত আছে পাঁচ রাতে দোয়া কবুল হয়ে থাকে…এ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়কে আমি মুস্তাহাব মনে করি, ওয়াজিব নয়। শায়খ আলবানী রহ. এটিকে সিলসিলাতুদ দয়িফাহ এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন-হাদীস নং- ১৪৫২)। দারুল ইফতা আল-মিসরিয়্যাতে এ হাদীস রাসূল সা. থেকে বর্ণিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

كما قالت السيدة عائشة أيضًا: سمعت النبي صل الله عليه وسلم يقول: «يَفْتَحُ اللهُ الْخَيْرَ فِي أَرْبَعِ لَيَالٍ: لَيْلَةِ الْأَضْحَى، وَالْفِطْرِ، وَلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَان؛ ينْسَخُ فِيهَا الْآجَالَ وَالْأَرْزَاقَ، وَيَكْتُبُ فِيهَا الْحَاجَّ، وَفِي لَيْلَةِ عَرَفَة إِلَى الْأَذَانِ».
৪. অনুরূপভাবে আয়িশা রা. বলেন, আমি রাসূল সা. থেকে বলতে শুনেছি চার রাতে আল্লাহ তা’আলা কল্যাণের দরজা খুলে দেন- ঈদুল আযহার রাত , ঈদুল ফিতরের রাত, মধ্য শাবানের রাত (যে রাতে আজাল বা বয়স সীমা ও রিযিকের ফয়সালা করা হয় এবং হাজীদের নাম লেখা হয়) এবং আরাফার রাত। (ইমাম বুখারী রহ. এ হাদীসের সনদে হাজ্জাজ ইবনু আরতাহকে দুর্বল বর্ণনাকারী সাব্যস্ত করে হাদীসটিকে যয়িফ বলেছেন।)

عن عثمان بن أبي العاص رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ نَادَى مُنَادٍ: هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأَغْفِرَ لَهُ، هَلْ مِنْ سَائِلٍ فَأُعْطِيَهُ، فَلَا يَسْأَلُ أَحَدٌ شَيْئًا إِلَّا أُعْطِيَ، إِلَّا زَانِيَةٌ بِفَرْجِهَا أَوْ مُشْرِكٌ».
৫. ইমাম বায়হাকী শুআবিল ঈমান এর মধ্যে বর্ণনা করেন: উসমান ইবনুল আ’স রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. বলেন: লাইলাতু নিসফে মিন শা’বানে একজন আহবানকারী আহবান করেন: ক্ষমাপ্রার্থী কেউ আছো কী? আমি তাকে ক্ষমা করবো, যাঞ্চাকারী বা সাহায্যপ্রার্থী আছো কী? আমি তার চাওয়া পূর্ণ করবো। এমন কোন সাহায্যপ্রার্থী থাকবে না যার চাহিদা পূর্ণ করা হবে না যিনাকারীনী এবং মুশরিক ব্যতিত। (ইমাম বায়হাকী, শুআবিল ঈমান)।

عن السيدة عائشة رضي الله- عنها قالت: قال رسول الله- عليه أفصل الصلاة والسلام: «إِنَّ اللهَ تَعَالَى يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لِأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعَرِ غَنَمِ كَلْبٍ»،
৬. সায়্যিদাহ আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের ছাগলের পশমের অধিক সংখ্যক বান্দাহকে ক্ষমা করেন।(ইমাম আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)। ইমাম তিরমিযী রহ. উল্লেখ করেছেন ইমাম বুখারী রহ. এ হাদীসকে যয়ীফ বলেছেন।

عن أبي ثعلبة الخشني رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ” إذا كان ليلة النصف من شعبان اطلع الله إلى خلقه، فيغفر للمؤمنين، ويملي للكافرين، ويدع أهل الحقد بحقدهم حتى يدعوه”
৭. আবূ সা’লাবাতুল খাশানী বলেন: রাসূল সা. বলেছেন: যখন মধ্য শাবানের রাত হয় তখন আল্লাহ তা’আলা তার সৃষ্টজীবের নিকটবর্তী হন এবং তাদের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন- মুমিনদেরকে ক্ষমা করেন, কাফিরদেরকে নির্দেশ প্রদান করেন এবং হিংসুকদের হিংসার সাথে ছেড়ে দেন যতক্ষণ না তারা ফিরে আসে। (ইমাম বায়হাকী, শুআবিল ঈমান, তাবরানী)। ইমাম আলবানী রহ. এ হাদীসকে হাসান সাব্যস্ত করে সহীহুল জামে’ গ্রন্থে ৭৭১ নং হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ فَقَدْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَخَرَجْتُ أَطْلُبُهُ فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيعِ رَافِعٌ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ ‏”‏ يَا عَائِشَةُ أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَتْ قَدْ قُلْتُ وَمَا بِي ذَلِكَ وَلَكِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعَرِ غَنَمِ كَلْبٍ ‏”‏ ‏.‏
৮. আয়িশা সিদ্দীকা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে আমি নবী (সা.)কে (বিছানায়) না পেয়ে তাঁর খোঁজে বের হলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি জান্নাতুল বাকিতে, তাঁর মাথা আকাশের দিকে তুলে (মুনাজাতে রত) আছেন। অত:পর তিনি বলেনঃ হে আয়িশা! তুমি কি আশঙ্কা করেছো যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন? আমি বললাম, তা নয়! বরং আমি আশঙ্কা করলাম যে, আপনি হয়তো আপনার কোন স্ত্রীর নিকট তাশরিফ নিয়ে গেছেন। তখন রাসূল সা. বললেনঃ আজ মধ্য শাবানের রাত৷ এ রাতে মহান আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের মেষপালের পশমের চাইতেও অধিক সংখ্যক লোকের গুনাহ মাফ করেন। সনদ হাসান৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং- ১৩৮৯, আস-সহীহ লি মুসলিম, হাদীস নং ৯৭৩-৭৪)।

ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেন: মধ্য শা’বানের রাতের ফযিলত সম্পর্কে অনেক মারফু হাদীস রয়েছে যা এ রাতকে মর্যাদাবান করেছে এবং সালাফদের কেউ কেউ নির্ধারিত সালাত এবং শাবানের সাওম পালন করেছেন। এ বিষয়ে অনেক সহীহ হাদীসও রয়েছে। (তাক্বী উদ্দিন ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইক্বতেদায়ুস সিরাতিল মুস্তাক্বিম, দারু ইলমিল কুতুব, বৈরুত: খণ্ড-২, পৃ. ১৩৬)।

মধ্য শাবানের রাতের সম্মান করা এবং ইবাদাতের চেষ্টা করা তাবেঈনদের মধ্যে খালিদ ইবনু মা’দান, মাকহুল, লুকমান ইবনু আমের রা. এবং সিরিয়াবাসী করতেন এবং বসরার লোকেরাও করতেন। তাঁরা সম্মিলিতভাবে মাসজিদে উপস্থিত হয়ে তা পালন করতেন। একই সময়ে হেজাজের আলিমগণ বিশেষত আ’তা রহ. এটা অস্বীকার করেছেন। ইমাম আওযায়ী রহ. মধ্য শা’বানের রাতে ব্যক্তিগত আমল করাকে বৈধ বলেছেন এবং সম্মিলিত যে কোন আমলকেই বিদাত বলেছেন। ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ. বলেছেন: মধ্য শাবানের রাতের আমল বৈধ এবং একত্রে জামাতবদ্ধভাবে আমল করা বেদাত। ড. জুমআহ বলেছেন: মধ্য শা’বানের রাতে দোয়া কবুল করা হয়।

উপরোক্ত হাদীসসমূহ, সালাফ ও খালাফ আলিমগণের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মধ্য শাবানের রাতে ইবাদাতের ফযিলত রয়েছে। দোয়া ইবাদতের মধ্যে গণ্য। ইবাদাত করার মধ্যে কোন পাপ নেই। নফল ইবাদাতে কোন বাধা নেই। নির্ধারিত নিয়মে সালাত পালনের কোন প্রমাণ নেই। এ বিষয়ে কোন নিষেধাজ্ঞামূলক হাদীস ও আয়াতও নেই। তবে দ্বীনের মধ্যে কোন কিছু বর্ধিত করার সুযোগও নেই তা বেদাত বলে গণ্য হবে। প্রতি মাসে আইয়্যামে বিদ এর সাওম পালন রাসূল সা. এর সুন্নাহ এবং শা’বান মাসে তা পালন করাও একই হুকুম বহন করে।

ইবাদাতের ক্ষেত্রে এ রাতে আমরা ব্যক্তিগত আমলকে প্রাধান্য দেই, পারলে দান সাদকাহ করি, মানুষকে সদউপদেশ দেই, অন্যায় অবিচার ও যুলুম থেকে মানুষকে বিরত রাখার চেষ্টা করি, নিজেদের আত্মাকে হিংসা-দ্বেষ কলুষতামুক্ত করে প্রশান্ত আত্মায় উন্নীত করি, অনর্থক বিতর্কি এড়িয়ে চলি, দ্বীনি বিষয় নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি না করি। বিশেষত মুস্তাহাব আমল করার সুযোগ হাদীসে যয়িফ দ্বারা প্রমাণিত হলেও যারা করতে চায় তাদেরকে বাধাগ্রস্ত না করি।

আপনি আমল করা থেকে বিরত থাকতে চাইলে থাকুন, অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা না করুন, অন্যকে গালমন্দ করে নিজেকে গুনাহগার বানানোর চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। চাহেতো আল্লাহ আমাদের সবার মঙ্গল করবেন। আল্লাহ আমাদের নেক মাকসাদগুলো পূরণ করুন। আমীন।

লেখক: অধ্যাপক, আল হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *